চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাড়ি-ভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন এক যুবক। এ ঘটনায় তার বড় ভাইও আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২১মার্চ) রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ফকিরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকের নাম সুবীর চক্রবর্তী (৩৫)। তিনি পেশায় একজন দর্জি । এছাড়া আহত ব্যক্তি হলেন তার বড় ভাই পল্লী চিকিৎসক প্রবীর চক্রবর্তী (৩৮)। তারা একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর পাড়ার মৃত অরুণ চক্রবর্তীর ছেলে।
আহত প্রবীর চক্রবর্তী জানান, তারা দুই ভাই পুরানগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড শীল ঘাটা এলাকায় দর্জি ও ওষুধের দোকান করেন। ঘটনার দিন রাতে দোকান বন্ধ করে দুই ভাই মোটরসাইকেল করে বাড়ির পাশে চলমান মহোৎসবে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেল থামিয়ে পায়ে হেঁটে মহোৎসবের দিকে যাওয়ার সময় দীপক দাসের নির্দেশে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রূপক দাস, দীপ্ত দাস, সুমিত দাস ও অলক দাসসহ ১০-১২ জন হাতে লাঠি, দা ও ছুরি নিয়ে তাদের গতিরোধ করে প্রথমে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। পরে তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এর মধ্যে রূপকের হাতে থাকা ছুরি ও দা দিয়ে তাকে মারতে চাইলে হাত দিয়ে ঠেকিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।
তিনি জানান, এ সময় ছোট ভাই সুবীরকেও পালিয়ে যেতে বলেন তিনি। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাত ও দায়ের কোপে তিনি আহত হন। পরে পাড়ার এক লোককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন রূপকের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে সুবীরের বুকের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে । এসময় রূপক বলতে থাকে, দীপক বলেছে—তাকে জানে মেরে ফেলার জন্য। ভাইকে উদ্ধারের জন্য আমি চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সুবীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুবীর চক্রবর্তীদের সঙ্গে বাড়ির পার্শ্ববর্তী রূপক দাসদের সঙ্গে ভিটা-বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। বিষয়টি সমাধান করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিরা কয়েকবার বৈঠকে বসেও মীমাংসা করতে ব্যর্থ হন । ২০২৩ সালের দিকে আদালত সুবীর চক্রবর্তীদের পক্ষে রায় দিয়ে লাল নিশান উড়িয়ে তাদের জায়গা বুঝিয়ে দিলেও তাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের রেশ থেকে যায়।
সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, সুবীর চক্রবর্তী হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা যান। তার তলপেট, বুক ও দু’পায়ের হাঁটুর নিচেও উপর্যুপরি ছুরির আঘাত রয়েছে।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ভিটা-বাড়ির সীমানার বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে সুবীর চক্রবর্তী নিহত ও তার বড় ভাই প্রবীর চক্রবর্তী আহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে রাতেই থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। শনিবার লাশের সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওসি।
ডিজে