সাতকানিয়ায় ছুরি মেরে যুবক খুনের ঘটনায় ৩ নারী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভিটা-বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে এক দর্জি খুনের ঘটনায় তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার তিন নারী হলেন—উপজেলার পুরানগড ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দীপক দাসের স্ত্রী ঝুমুর দাস, রূপক দাসের স্ত্রী স্বপ্না দাস ও মেয়ে অন্তরা দাস।

শনিবার (২২ মার্চ) সাতকানিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বড় ভাই প্রবীর চক্রবর্তী। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ ও ২-৩ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—রূপক দাস, দীপ্ত দাস, অলক দাস, দীপক দাস, প্রিয়ম দাস কালু ও সুদীপ্ত দাস।

নিহত সুবীর চক্রবর্তীর মা রত্না চক্রবর্তী বলেন, আমি ছেলে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম বলেন, ভিটা-বাড়ির সীমানার বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে । ঘটনার রাতেই লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের নিকট লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই প্রবীর চক্রবর্তী বাদি হয়ে শনিবার মামলা দায়ের করেন। তিন মহিলা আসামিকে গ্রেপ্তার করে শনিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (২১মার্চ) রাতে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড ফকিরখীল এলাকায় বাড়ি-ভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সুবীর চক্রবর্তী (৩৫) নামে ওই যুবক। এ ঘটনায় তার বড় ভাই প্রবীর চক্রবর্তীও আহত হন।

নিহত সুবীর চক্রবর্তী পেশায় একজন দর্জি । এছাড়া আহত ব্যক্তি হলেন তার বড় ভাই প্রবীর চক্রবর্তী (৩৮) একজন পল্লী চিকিৎসক। তারা একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড উত্তর পাড়ার মৃত অরুণ চক্রবর্তীর ছেলে।

আহত প্রবীর চক্রবর্তী জানান, তারা দুই ভাই পুরানগড় ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড শীল ঘাটা এলাকায় দর্জি ও ওষুধের দোকান করেন। ঘটনার দিন রাতে দোকান বন্ধ করে দুই ভাই মোটরসাইকেল করে বাড়ির পাশে চলমান মহোৎসবে যাচ্ছিলেন। মোটরসাইকেল থামিয়ে পায়ে হেঁটে মহোৎসবের দিকে যাওয়ার সময় দীপক দাসের নির্দেশে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা রূপক দাস, দীপ্ত দাস, সুমিত দাস ও অলক দাসসহ ১০-১২ জন হাতে লাঠি, দা ও ছুরি নিয়ে তাদের গতিরোধ করে প্রথমে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। পরে তাদের হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাদের এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এর মধ্যে রূপকের হাতে থাকা ছুরি ও দা দিয়ে তাকে মারতে চাইলে হাত দিয়ে ঠেকিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তিনি।

তিনি জানান, এ সময় ছোট ভাই সুবীরকেও পালিয়ে যেতে বলেন তিনি। প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাত ও দায়ের কোপে তিনি আহত হন। পরে পাড়ার এক লোককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন রূপকের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে সুবীরের বুকের ওপর উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে । এসময় রূপক বলতে থাকে, দীপক বলেছে—তাকে জানে মেরে ফেলার জন্য। ভাইকে উদ্ধারের জন্য আমি চিৎকার শুরু করলে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সুবীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত সুবীর চক্রবর্তীদের সঙ্গে বাড়ির পার্শ্ববর্তী রূপক দাসদের সঙ্গে ভিটা-বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। বিষয়টি সমাধান করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজপতিরা কয়েকবার বৈঠকে বসেও মীমাংসা করতে ব্যর্থ হন । ২০২৩ সালের দিকে আদালত সুবীর চক্রবর্তীদের পক্ষে রায় দিয়ে লাল নিশান উড়িয়ে তাদের জায়গা বুঝিয়ে দিলেও তাদের মধ্যে পূর্ব বিরোধের রেশ থেকে যায়।

ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm