চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদলকর্মীর বিরুদ্ধে। চাঁদা চেয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে কথা বলার কিছু অডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। কখনও পুলিশের সোর্স, কখনও অভিযান দলে সদস্য দাবি করে ওই ছাত্রদলকর্মী এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত ওই ছাত্রদলকর্মীর নাম মো. জয়নাল আবেদীন (৩২)। তার বিরুদ্ধে অতীতেও চাঁদাবাজি, হুমকি-ধমকি ও মামলা তুলে নিতে জোর করার অভিযোগ রয়েছে থানায়। এর মধ্যে র্যা ব-৭-এর কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং কর্ণফুলী থানায় মামলা তুলে নিতে হুমকির অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। তবে এসব মামলা মীমাংসা হলেও, তিনি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরে আসেননি।
অভিযুক্ত ছাত্রদলকর্মী কলের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, তিনি দুষ্টুমি করে টাকা চেয়েছেন। এ ধরনের ভুল আর হবে না।
ভাইরাল হওয়া একটি ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, জয়নাল স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিনের সঙ্গে কথোপকথনে পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ভয় দেখাচ্ছে এবং এক লাখ টাকা চাইছেন। জয়নাল বলেন, ‘গতকাল রাতে দুই গাড়ি পুলিশ এসেছিল। আমি তাদের সাথে হেঁটে যাচ্ছিলাম দেখছো। পুলিশি খাতায় নাম কাটানোর জন্য ১ লাখ টাকা লাগবে। প্রয়োজনে আলী নামে আরেকজনের সাথেও কথা বলতে পারেন। এখানে ‘আলী’ হচ্ছেন মোহাম্মদ আলী, যিনি ইউনিয়ন যুবদল নেতা বলে জানা গেছে।
আরেকটি ১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের অডিওতে শোনা যায়, জয়নাল সাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীকে ফোন করে জানান, ‘২৮ জনের নামে মামলা হয়েছে, তাতে তার নামও আছে। ২০ হাজার টাকা দিলে নাম কেটে দেওয়া হবে।’
এসব কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মাধ্যমে এর সত্যতা নিশ্চিত করা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, এসব অডিওর শোনা কণ্ঠগুলো যথাক্রমে জুলধা এলাকার জয়নাল, নুর উদ্দিন এবং সাহাব উদ্দিনের। এসব অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ালে পুরো এলাকা জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়নাল পুলিশ ফাঁড়ি এবং নৌ তদন্ত কেন্দ্রের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এলাকায় টহল পুলিশ আসলে তাকে তাদের সঙ্গে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়নাল এবং তার সহযোগীরা নিয়মিত পুলিশের সোর্স কিংবা পুলিশের ‘কাছের লোক’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। তারা কখনও পুলিশের নাম ভাঙিয়ে, কখনও আবার পুলিশের অভিযান দলের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়।
শাহমীরপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই আব্দুল গফুর ও জুলধা ডাঙারচর নৌ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি এসআই কেএম নাজিবুল ইসলাম তানভীর জানান, এই বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে এবং আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন অফিসারদের অবহিত করেছি।
এদিকে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করা যাবে না। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জয়নাল বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ছাত্রদল করি, তবে কোনো পদ-পদবি নেই। তবে আমি তো মিথ্যা বলছি না। টাকা চেয়েছি দুষ্টুমি করে। কেউ টাকা দিছে এমন প্রমাণ নেই। অডিও নিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন ষড়যন্ত্র করছে।’
পরে ফোন করে তিনি প্রতিবেদককে জানান, ‘তার আসলে এটি ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল করবেন না। দুষ্টুমি করে রিং করেছিলেন আত্মীয় হিসেবে। যা আসলে সিরিয়াসলি ছিল না। ভবিষ্যতে সতর্ক হবেন।’
জেজে/ডিজে



