নারী কনস্টেবলকে সরকারি ডিউটিতে সুযোগ-সুবিধার লোভ দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন মুগদা ফাঁড়ির এসআই নূর মোহাম্মদ মোস্তফা। পরে মোবাইলে কুরুচিপূর্ণ বার্তা পাঠানোর অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী কনস্টেবলের অভিযোগ ও অডিও রেকর্ডিংয়ের ভিত্তিতে তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এসআই নূর মোহাম্মদকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ডিএমপি।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ওই অফিস আদেশে ঘটনা প্রসঙ্গে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের মুগদা পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই নূর মোহাম্মদ মোস্তফা (বিপি-৯১২০২২৬৪৩৮) মুগদা ফাঁড়িতে কর্মরত এক নারী কনস্টেবলকে ফাঁড়ির অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে সরকারি ডিউটির ক্ষেত্রে সুযোগ সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর একপর্যায়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন।
এরপর ২৫ মার্চ রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই নারী কনস্টেবলের মোবাইল ফোনে প্রথমে নাম্বারে এবং পরে হোয়াটস্অ্যাপে কল দিয়ে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ কথা বার্তা বলেন এসআই নূর মোহাম্মদ মোস্তফা। ওই এসআই এ সময় নারী কনস্টেবলকে অফিস রুমে গল্প করা, তাকে সময় দেওয়া, মোবাইল ফোনে কথা বলা ছাড়াও শারীরিক মেলামেশার প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগী নারী কনস্টেবল অনৈতিক এসব প্রস্তাব নিয়ে কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ের একটি পেনড্রাইভসহ একটি অভিযোগ দেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে।
পরে এ নিয়ে তদন্তে ঘটনা প্রমাণিত হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য হিসেবে এসআই নূর মোহাম্মদ মোস্তফার এ ধরনের কার্যকলাপ ‘কর্তব্যে অবহেলা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী এবং অসদাচরণের শামিল’।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার শাহরিয়ার আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, ‘অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (অধঃস্তন কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০০৬ এর ৯(১), মোতাবেক এসআই নুর মোহাম্মদ মোস্তফাকে ২৭ মার্চ অপরাহ্নে চাকরি থেকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্ত থাকাকালীন সময় তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতা পাবেন এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে হাজির থেকে নিয়মিত রোলকল দেবেন।’
সিপি