রেল নিরাপত্তায় ‘টাকার বিনিময়ে র্যাংক’, মুখে মুখে অবৈধ পদোন্নতির খেলা
অফিস আদেশ ছাড়াই র্যাংক বেড়েছে ৩০ জনের
রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) পূর্বাঞ্চলের অফিস আদেশ ছাড়াই মৌখিক সম্মতিতে সাময়িক র্যাংক পাওয়া সদস্যরা বহাল তবিয়তে। কোনো প্রকার দক্ষতা পরীক্ষা ছাড়াই র্যাংক পদোন্নতিপ্রাপ্তদের বেশিরভাগ চট্টগ্রাম বিভাগে। এরকম আরএনবি সূত্রে এ ধরনের সদস্য সংখ্যা ২০ জন বলে জানা গেছেও বাস্তবে এ সংখ্যা ৩০ জন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান চিফ কমান্ড্যান্টের সঙ্গে পদভেদে ২-৪ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে এখনও তারা বহাল তবিয়তে আছেন।
পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে চিফ কমান্ড্যান্ট মো. ইকবাল হোসেন পদোন্নতি দেন তিনজন, এরপর মো. জহিরুল ইসলাম দেন ১৬ জন ও ২০২৪ সালে মো. আশাবুল ইসলাম দেন একজনকে। সে হিসেবে এ সংখ্যা ২০ জন।
তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এ সংখ্যা ৩০ জনের কাছাকাছি। কোনো ধরনের লিখিত আদেশ ছাড়াই কেবল মৌখিক সম্মতিতে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, চিফ কমান্ড্যান্ট মো. আশাবুল ইসলাম পূর্বাঞ্চলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নায়েক পদে ১ লাখ ও অন্যান্য পদের জন্য ২-৩ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে ওইসব সদস্যদের র্যাংক পদে বহাল রেখেছেন৷
আরএনবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, র্যাংক নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি বাহিনীর ভেতরে-বাইরে আলোচনা হচ্ছে। কোনো ধরনের যোগ্যতা ছাড়া কেবল টাকার বিনিময়ে পদোন্নতি পেলে বাহিনীর দক্ষতা ও সুনাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এতে দক্ষ ও যোগ্য সদস্যরা পদোন্নতিবঞ্চিত হওয়ার কারণে তাদের মনে ক্ষোভ রয়েছে। এজন্য তাদের মূল পদে ফিরিয়ে এনে যোগ্যদের মূল্যয়ন করা দরকার।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আরএনবির নিয়ম অনুযায়ী—একজন সিপাহী পদ থেকে নায়েক ও হাবিলদার পদ থেকে এএসআই পদে পদোন্নতির জন্য ৩ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। নায়েক হতে হাবিলদার পদের জন্য ২ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন৷ এএসআই পদ থেকে এসআই এবং এসআই থেকে ইন্সপেক্টর হিসেবে পদোন্নতির জন্য ৫ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।
এছাড়া পদোন্নতির জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং অস্ত্র চালানো অনুশীলনে পাশ করতে হয়।
২০ আরএনবি সদস্যের মধ্যে ১৪ জনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন—চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন জেনারেল শাখায় নায়েক র্যাংক বহন করা ইকবাল হোসেন ও সুলতান সরকার। কিন্তু তাদের পদবি কাগজে-কলমে সিপাহী। হাবিলদার হাবিবুর রহমান আছেন অস্থায়ী এএসআই পদে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন অস্ত্র শাখার এএসআই শওকত হোসেন ও সুনীল কান্তি শীল আছেন এসআই র্যাংক নিয়ে, হাবিলদার জহিরুল ইসলাম ও পান্না লাল দে আছেন এএসআই র্যাংক নিয়ে। চট্টগ্রাম পাহাড়তলী কারখানা শাখায় এএসআই রাজ্জাকুল হায়দার এসআই র্যাংক বহন করছেন। ঢাকা অস্ত্র শাখায় হাবিলদার ফারুক এএসআই ও জেনারেল শাখায় হাবিলদার মো. রোটন এএসআই র্যাংক বহন করছেন।
সিজিপিওয়াইয়ে এসআই আবু সুফিয়ান ইন্সপেক্টর ও খুলশী ট্রেনিং সেন্টারে সিপাহী দীনেশ চাকমা এবং লাকসামে সিপাহী বিল্লাল হোসেন আছেন নায়েক র্যাংক নিয়ে। এছাড়া সিলেট ভৈরববাজার শাখায় ইন্সপেক্টর র্যাংক নিয়ে অফিস করছেন এসআই তাজবীর আহমেদ।
অফিস আদেশে পদোন্নতিপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন জেনারেল শাখায় নায়েক র্যাংক বহন করা সুলতান সরকার বলেন, ‘আমার মূল পদবি সিপাহী। কিন্তু অতিরিক্ত দায়িত্বে নায়েক হিসেবে তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি।
সিলেট ভৈরববাজার শাখায় ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এসআই তাজবীর আহমেদ বলেন, ‘আমি সিনিয়র হিসেবে আড়াই বছর আগে জহির স্যারের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইন্সপেক্টর র্যাংক পদোন্নতি পেয়েছি। বর্তমানে সিলেটে ইন্সপেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।’
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মো. আশাবুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আরএনবিতে নিযোগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় কাজের সুবিধার জন্য এরকম পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। আমি পূর্বাঞ্চলে যোগদানের পর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্তদের মূল পদে ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করছি। রেল ভবনে একটি প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে। সিনিয়রদের তালিকা অনুযায়ী এই পদগুলোতে পদায়ন করা হবে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম নেই।’
ডিজে