৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে চট্টগ্রামে বিএনপি নেতার ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

চট্টগ্রামে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের বার্তা জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াজ মোহাম্মদ খান। দলের ঘোষিত রূপরেখা ছড়িয়ে দিতে তিনি নগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের হাতে স্মারক পোস্টার, ক্যালেন্ডার ও স্টিকার তুলে দেন, যা পর্যায়ক্রমে নগরজুড়ে বিতরণ করা হবে।

৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছাতে চট্টগ্রামে বিএনপি নেতার ভিন্নধর্মী উদ্যোগ 1

এটি ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী সাংগঠনিক প্রচার অভিযান যা দলের কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগামী জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বার্তা জনগণের মাঝে পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) দুপুরে তিনি নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এবং সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের হাতে ৩১ দফা সংবলিত স্মারক পোস্টার, ক্যালেন্ডার ও স্টিকার তুলে দেন। এই উপলক্ষে নগরীর পাঁচলাইশে আহ্বায়কের বাসভবন ও হালিশহরে সদস্য সচিবের বাসায় পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে ২৩ নম্বর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপি, যুবদল এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফাকে ভিত্তি করে বিএনপি ২৭ দফা প্রণয়ন করেছিল। ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই তারেক রহমান জাতির প্রয়োজনে ৩১ দফা ঘোষণা করেন, যা পরে ৪২টি সমমনা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সমন্বয় করে চূড়ান্ত করা হয়। এটি বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির সনদ। ৩১ দফা বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতি, সমাজনীতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আমূল পরিবর্তন আসবে। নিয়াজ মোহাম্মদ খানের এই ব্যতিক্রমী প্রচার উদ্যোগ মহানগরের সব ওয়ার্ডে ছড়িয়ে পড়া উচিত।’

সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান বলেন, ‘নিয়াজ মোহাম্মদ খানের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। স্মারক পোস্টার ও ক্যালেন্ডার ঘরে ঘরে পৌঁছালে সাধারণ মানুষ ৩১ দফা সম্পর্কে জানার সুযোগ পাবে। দেশের কল্যাণে তারেক রহমান যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ৩১ দফায় বেকারত্ব দূরীকরণ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রমিকের অধিকার ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা একটি কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে সহায়ক।’

উদ্যোক্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারে ৩১ দফার কোনো বিকল্প নেই। এটি এমন একটি রূপরেখা যেখানে সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার রয়েছে। আমরা এই দফাগুলো সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে স্মারক পোস্টার, ক্যালেন্ডার, স্টিকার ও লিফলেট ছাপিয়ে নগর নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছি। এখন পর্যায়ক্রমে এসব উপকরণ সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার সরকারের সময়েই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ৩১ দফা ঘোষণা করেছিলেন। আজ যারা সংস্কার প্রস্তাবনা দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই তখন নীরব ছিলেন। গত ১৭ বছরে যারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন, তারা বরাবরই বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টরকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে। এই অবস্থায় দেশকে রক্ষার জন্যই বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—রফিক মেম্বার, আব্দুল হালিম, আব্দুল মান্নান, আব্দুল আজিম, এএসএম নাসির, মোজাহের খান, আনু মিয়া বাবুল, হাজী ইসমাইল, আব্দুল নুর, আব্দুল আজিজ, আবুল কালাম, যুবদল নেতা মো. ফারুক, মো. মুরাদ এবং জাসাস নেতা মো. তানভীর।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm