চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো তিন দিনব্যাপী ‘ইস্পাহানী-দৃষ্টি বিজনেস আইডিয়া কনটেস্ট ২০২৫’-এর গ্র্যান্ড ফাইনাল। ৩১ মে সন্ধ্যায় নগরীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের দল ‘টিম ডাইভারসাম’ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ফারিহা আহমেদ রাইসা, আবদুর রহমান ও রিনভি নুসরাত প্রাপ্তির সমন্বয়ে গঠিত টিমটি এমন একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যা চট্টগ্রামে উন্নত চিকিৎসা সেবার ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে। তাদের প্রস্তাবিত মডেলটি ঢাকামুখী চিকিৎসা নির্ভরতা কমাতে পারে। এতে ক্যান্সার নির্ণয়, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট ও গর্ভবতী নারীদের বিভিন্ন অত্যাবশ্যকীয় পরীক্ষা চট্টগ্রামেই করার সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিযোগিতায় প্রথম রানার-আপ হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের দল ‘এফবিডিএ ফাইন্যান্সিয়াল ফানিস’। তারা পুরনো কন্টেইনার ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী এবং অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করে, যা পর্যটন, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর সমাধান হতে পারে।
বিজনেস আইডিয়া কনটেস্টে চট্টগ্রামের ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করে ২৭টি দল। চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় ছয়টি দল, যারা নিজেদের উদ্ভাবনী ভাবনা ও দক্ষতা দিয়ে বিচারকদের সামনে উপস্থাপন করে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা। চ্যালেঞ্জ ছিল এমন একটি নতুন উদ্যোগের প্রস্তাব দেওয়া, যা বর্তমানে চট্টগ্রামে নেই এবং ২০ কোটি টাকার মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য।
চূড়ান্ত পর্বে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন কর্পোরেট কনসালটেন্ট আহমেদ জিবরান, দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট মো. মিজানুর রহমান ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন এবং কর্পোরেট পারসোন তাহরিন তারানুম।
প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ইস্পাহানী গ্রুপের ফিনান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম শিপলু, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য বৃজেট ডায়েস, এসপেরিয়া হেলথ লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকী মাসুদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান।
অনুষ্ঠানে দৃষ্টি চট্টগ্রামের সভাপতি সাইফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাবের শাহ, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মুন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্না মজুমদার, সদস্য মেহেবুবা কবির তিসা ও জুনায়েদ আসাদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নছরুল কদির বলেন, “চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছে তারা শুধু চাকরি খোঁজে না, বরং সমাজের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্যোগ নিতে প্রস্তুত। তাদের আইডিয়া বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
ইস্পাহানী গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম শিপলু বলেন, “ইস্পাহানী সবসময়ই উদ্ভাবনী চিন্তা ও শিক্ষার্থীদের বিকাশে পাশে থেকেছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।”
দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল জানান, “তরুণদের জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম তাদের চিন্তা ও কাজের ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করে। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
আয়োজকরা জানান, ইস্পাহানীর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণায় পরিণত হবে।