দুবাইয়ে অর্থ পাচারকারীদের সম্পদ জব্দে চলছে আলোচনা, বললেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশ সরকার এখন আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করে তাদের সম্পদ জব্দ করতে ইতোমধ্যে দুবাইসহ বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার কথায় স্পষ্ট—এই অপরাধীদের শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না।

গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যারা বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার করেছেন, তারা কেউই ছাড় পাবেন না। বিদেশি রাষ্ট্র ও প্রবাসী কমিউনিটির সহযোগিতা ছাড়া এই লড়াই সহজ নয়। তাই আমরা সকল পক্ষের সঙ্গে কাজ করছি।’

মতবিনিময় সভায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) রাতে দুবাইয়ের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জনতা ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংকের যৌথ আয়োজনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন গভর্নর। প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে হয় এ আলোচনা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ব্যাংক ব্যবস্থায় আমানতকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কেউই তার সঞ্চয়ের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন না। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সবল করার জন্য সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।”

দুর্বল ব্যাংক সংস্কারে কঠোর অবস্থান

দেশের ব্যাংক খাতে চলমান সংকট নিরসনে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে গভর্নর বলেন, “দুর্বল সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোকে সরকারিকরণ বা নতুন মূলধন সরবরাহের মাধ্যমে পুনর্গঠন করা হতে পারে। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

রেমিট্যান্সে আমিরাত প্রবাসীদের প্রশংসা

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পাঠানো হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, “রেমিট্যান্স খরচ কমাতে আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করছি। ফি কমলে বৈধ পথে আরও বেশি অর্থ আসবে।”

জনতা ব্যাংকের ১৩টি নতুন বুথের ঘোষণা

সভায় জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম ফজলুর রহমান আমিরাতের বিভিন্ন প্রদেশে নতুন ১৩টি বুথ চালুর ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “প্রবাসী গ্রাহকদের সেবা আরও সহজ করতে জনতা ব্যাংক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন জনতা ব্যাংক সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান। উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশিদ ওহাব, জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবর রহমান, ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক খানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও প্রবাসী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm