রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চাকরিচ্যুত/ মঙ্গলবার নতুন কর্মসূচি আন্দোলনকারী শিক্ষকদের
১০ ঘণ্টা পর গাড়ি চলাচল শুরু কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে
১০ ঘণ্টা পর কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষকরা মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাত ৭ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কক্সবাজার-টেকনাফের শহীদ এটিএম জাফর আলম মহাসড়কের কোটবাজার এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থেকে চাকরিচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকরা।
অবরোধের কারণে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দীর্ঘ ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ ছিল। ফলে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
এর আগে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত শিক্ষা প্রকল্প থেকে ১ হাজার ২৫০ শিক্ষককে ছাঁটাই করা হয়। এরপর ১ জুন চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। সে সময় চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা। আড়াই মাস পার হলেও চাকরি ফিরে না পাওয়ায় আবারো সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষকরা।
নারী শিক্ষক অন্তি ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরি করেছি। চাকরি চলে যাওয়ার কারণে আন্দোলনে যোগ দিয়েছি।
আন্দোলনকারী শিক্ষক রোমানা আক্তার বলেন, এনজিও সংস্থাগুলো দিনের পর দিন স্থানীয় শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্য করে আসছিল, তারা বিনা কারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত ১২৫০ জন শিক্ষককে ছাঁটাই করেন। এ ঘটনার পরে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে এর আগেও আন্দোলনে করেছিলাম। পরে এনজিও সংস্থা বা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলেও এই পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আবারো আমরা আন্দোলনে নেমেছি।
স্থানীয় শিক্ষকদের প্রতিনিধি সাইদুল ইসলাম শামীম বলেন, আমরা দাবি করছি, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহাল করা হোক এবং ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক।
কক্সবাজার জেলা সমন্বয়ক জিনিয়া শারমিন বলেন, চলমান আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের রাজপথে এসে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় শিক্ষকদের চাকরি নিশ্চিত করতে হবে। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। মঙ্গলবার কক্সবাজারে সড়ক অবরোধ হবে।
স্থানীয় যুবক ইউসুফ বলেন, বহিরাগত ও রোহিঙ্গাদের চাকরি থেকে বাদ দিতে হবে। প্রচণ্ড রোদের কারনে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অবরোধ চলাকালীন র্যাব-পুলিশ-সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিতি ছিলেন।
আন্দোলন চলাকালীন গাড়িতে আটকে পড়া রহিম উল্লাহ নামে এক যাত্রী বলেন, স্থানীয় শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনে করছেন, এ ঘটনায় আমরা আটকা পড়ে আছি। অনেক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি কাজেও যেতে পারছি না।
এদিকে আন্দোলন চলাকালীন দুপুর ১টার দিকে কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার সাইফুদ্দিন ঘটনাস্থলে আসেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তিনি কথা বলেন। এসময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন বলেন, ১৫০ শিক্ষক নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে শুনেছি। তবে কোন এনজিও নেবে, জানা যায়নি।
এ বিষয়ে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফ হোসেন বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ শেষ হয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ডিজে