শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জ, এনসিপির জিনিয়াসহ আটক ৩০, উখিয়া থানার সামনে বিক্ষোভ
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় আহত ৫
কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। যৌথ বাহিনীর অভিযানে এনসিপি নেত্রী জিনিয়াসহ ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারী শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছে।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল সাত ৭টা থেকে আন্দোলন শুরু করে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা। এরপর উখিয়ার ফলিয়া পাড়া রাস্তার মাথা ও উখিয়া হাসপাতাল এলাকায় লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটে।
এর আগে সোমবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৭টা থেকে আন্দোলনকারীরা কক্সবাজার-টেকনাফের শহীদ এটিএম জাফর আলম মহাসড়ক অবরোধ করেন। টানা ৫ ঘণ্টা এই আন্দোলনের কারণে উভয় পাশে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে, যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপি নেত্রী জিনিয়া, নওশাদ, ছাত্র প্রতিনিধি শামিম ও রানা। তবে অপর জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এছাড়া আহতদের পরিচয়ও তাৎক্ষণিক জানা যায়নি।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফের সঙ্গে এনসিপি ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের বৈঠক হয়। তবে পুলিশ কাউকে ছাড়েনি। বৈঠকে এনসিপি কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব সুজা উদ্দিন, সংগঠক উমর ফারুক, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব সাদমান জামি চৌধুরী, রামিম ও দুইজন শিক্ষক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে জানতে উখিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোসেন মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
জানা গেছে, মঙ্গলবার তারা বিভিন্ন এনজিওর গাড়ি ক্যাম্পের দিকে যাওয়ার সময় বাধা দিচ্ছিল। পুলিশ তাদের বারণ করলেও আন্দোলনকারীরা শোনেনি। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। সেখান থেকে এনসিপি নেত্রী জিনিয়াসহ অন্তত ৩০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয় বাংলাদেশি শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে অর্থ সংকটের কারণ দেখিয়ে ইউনিসেফসহ কয়েকটি এনজিও সম্প্রতি রোহিঙ্গা শিক্ষকদের রেখে তাদের চাকরি বাতিল করে। এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকরা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনে নামেন।
চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের দাবি, প্রশাসন সমাধানের আশ্বাস দিলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় শিক্ষক নেতা সাইদুল ইসলাম শামীম ওই সময় জানান, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের পুনর্বহাল করা হোক এবং ক্যাম্পে শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হোক।
ডিজে