দেশের প্রথম মনোরেল হবে চট্টগ্রামে, তিন রুটে শহর ঘোরা যাবে ৪০ মিনিটেই

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নির্মিত হবে দেশের প্রথম মনোরেল। এতে বিনিয়োগ ধরা হয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। তিনটি দেশের অর্থায়ন ও সমন্বয়ে তৈরি করা হবে এটি। ৩২ থেকে ৩৩টি স্টেশনসহ তিনটি রুটে ৫৪ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে মনোরেল। মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটেই পুরো শহর ঘুরে দেখা যাবে। তবে এতে শুধুমাত্র লজিস্টিক সাপোর্ট ও ভূমি দেবে সিটি কর্পোরেশন। মূলত নগরীর যানজট নিরসনের জন্যই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দেশের প্রথম মনোরেল হবে চট্টগ্রামে, তিন রুটে শহর ঘোরা যাবে ৪০ মিনিটেই 1

রোববার (১ জুন) সকালে নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে ওরাসকম ও আরব কন্ট্রাক্টর গ্রুপের এ সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়। প্রতিষ্ঠান দুটি নগরীতে ফিজিবিলিটি স্টাডি করবে।

সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, জার্মান ও মিশরের জয়েন্টভেঞ্চার কোম্পানি ওরাসকম এবং আরব কন্ট্রাক্টরস মনোরেল নির্মাণে অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখায়। এরপর তাদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, এই মনোরেল ৫৪ কিলোমিটার বিস্তৃত হবে। স্টেশন থাকবে ৩২ থেকে ৩৩টি। মনোরেলে করে পুরো শহর ঘুরতে সময় লাগবে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট।

সড়ক বিশেষজ্ঞরা জানান, মনোরেল হলো আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন রেলব্যবস্থা। এই রেলে মেট্রোরেলের চেয়ে প্রায় অর্ধেক অর্থের সাশ্রয় হবে। এছাড়া মনোরেলের জন্য অনেক জায়গার প্রয়োজন হয় না। প্রস্তাবিত মনোরেল প্রকল্পটির মোট দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার এবং এতে বিনিয়োগ হবে প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা। পুরো অর্থায়ন আনবে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান—ওরাসকম কনস্ট্রাকশন ও আরব কন্ট্রাক্টরস।

অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই বিনিয়োগের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কোনো আর্থিক দায় থাকবে না। কেবল আমরা প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ও ভূমি বরাদ্দ দেব।’

অনুষ্ঠানে গ্রেটার চিটাগাং ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট ও টেকসই নগরীতে রূপান্তরের অংশ হিসেবে মনোরেল প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও নগরবাসীকে নিয়ে একটি ইকোনমিক ফোরাম গঠন করে এই প্রকল্পকে বাস্তবায়নে কাজ করবো।’

এদিকে মনোরেল প্রকল্পের অর্থায়ন, প্রযুক্তি ও বাস্তবায়ন কাঠামো তুলে ধরেন আরব কন্ট্রাক্টরস ও ওরাসকম পেনিনসুলা কনসোর্টিয়ামের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ কাউসার আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। এখানে যানজট ও পরিবহন সংকট ক্রমবর্ধমান। মনোরেল একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব সমাধান। আমরা এই প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বাস্তবায়ন করা হবে। বিনিয়োগ আসবে NAS Investment এবং National Bank of Egypt-এর মাধ্যমে। প্রকল্পের সম্ভাব্য তিনটি রুট হচ্ছে—লাইন-১ (২৬.৫ কিমি) : কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত (বহদ্দারহাট, চকবাজার, লালখানবাজার, দেওয়ানহাট ও পতেঙ্গা), লাইন-২ (১৩.৫ কিমি) : সিটি গেট থেকে শহীদ বাশিরুজ্জামান স্কয়ার (এ কে খান, নিমতলী, সদরঘাট ও ফিরিঙ্গিবাজার) এবং লাইন-৩ (১৪.৫ কিমি) : অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার (মুরাদপুর, পাঁচলাইশ, আন্দরকিল্লা ও কোতোয়ালী)।’

কাউসার আলম চৌধুরী বলেন, ‘মনোরেল থেকে রাজস্ব আসবে। শুধু টিকিট নয় বরং বিজ্ঞাপন, স্টেশনে দোকানপাট, আশপাশের সম্পত্তিমূল্য বৃদ্ধির মাধ্যমেও। একটি ভালো গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে ৫ থেকে ৭ গুণ পর্যন্ত অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যায়।’

আইএমই/ডিজে

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm