শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবরের শতকোটির সাম্রাজ্য অদৃশ্য, দুদকের মামলায় স্ত্রীর নামেও নগণ্য অংক

চট্টগ্রামের আলোচিত যুবলীগের সাবেক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে পিস্তল হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের মুরাদপুরে পিস্তল হাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।

বুধবার (২০ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক মো. নওশাদ আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জেসমিন আক্তার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন এবং আরও ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এসব সম্পদ অর্জনে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার দুইদিন আগে বাবর প্রথমে ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন অবস্থান করার পর তিনি দুবাইয়ে চলে যান। বর্তমানে সেখানেই থাকছেন।

চট্টগ্রামে তার গড়ে তোলা বিশাল অবৈধ সাম্রাজ্য বর্তমানে হাতবদল হয়ে নগর বিএনপির সাবেক এক শীর্ষ নেতার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হয়, বাবর চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অবৈধ নানা উপায়ে অন্তত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, জেসমিন আক্তার দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অপরাধ করেছেন। আর তার স্বামী বাবরকে সহযোগী হিসেবে দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বাবর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। তবে তার পরিচিতি আরও বহুমাত্রিক—পুলিশ ও র‌্যাবের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবেও তিনি কুখ্যাত ছিলেন। কোটি টাকার রেলের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডে তার নাম দীর্ঘদিন আলোচনায় থেকেছে।

২০১৩ সালের ২৪ জুন রেলের টেন্ডার নিয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাবর গ্রুপ ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন গ্রুপের সংঘর্ষে এক শিশুসহ দুজন নিহত হন। ওই ঘটনার পর দায়ের করা জোড়া খুন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বাবর যুবলীগ থেকে বহিষ্কৃত হন।

তার বিরুদ্ধে রাউজানের আকবর-মুরাদ হত্যা, বিএনপিকর্মী আজাদ হত্যা, মির্জা লেনের ডাবল মার্ডার, সিটি কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আশিক হত্যা, তামাকুমুণ্ডি লেনের রাসেল হত্যা এবং ষোলশহরে ফরিদ হত্যাসহ ডজনখানেক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।

২০১৮ সালের ১৩ অক্টোবর র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সন্ত্রাসী অসীম রায় বাবু নিহত হওয়ার পর বাবর দুবাই পালিয়ে যান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দেশে ফিরলেও, ২০১৯ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম কারাগারে সন্ত্রাসী অমিত মুহুরী খুন হওয়ার পর তিনি আবার বিদেশে চলে যান। পরে শিক্ষামন্ত্রী নওফেলের ছায়ায় দেশে ফিরে ফের সক্রিয় হন রাজনীতিতে।

যখনই ঘটনা, তখনই আপডেট পেতে, গ্রাহক হয়ে যান এখনই!

ksrm