চট্টগ্রামের কালুরঘাট সেতুর ওপর পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ সাতটি গাড়ি দুমড়েমুচড়ে গেছে। এতে শিশুসহ দুজন নিহত ও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেতুর বোয়ালখালী অংশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিগন্যাল অমান্য করে অন্তত ৮টি গাড়ি একসঙ্গে সেতুর ওপর উঠে যায়। এর মধ্যে দুটি অটোরিকশায় ধাক্কা দেয় দ্রুতগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন, যা কক্সবাজার থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে আসে।
দুটি সিএনজির মধ্যে একটির যাত্রীরা অক্ষত অবস্থায় বের হতে পারলেও অপরটিতে এক পরিবারের বাবা, মা ও তাদের সাড়ে চার বছরের মেয়ে ছিল। মায়ের পা ভেঙে গেলেও বাবার কিছু হয়নি। তবে শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা গেছে। শিশুর মা পার্কভিউতে ভর্তি আছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম মেডিকেলের জরুরি বিভাগের ভেতরে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী কোনো লাইনম্যান ছিল না বলে অভিযোগ করেন।
আহতরা হলেন—বোয়ালখালী থানার আহলা দরবার শরিফ এলাকার বাবুল আহমেদের ছেলে আরিফ উদ্দিন বাপ্পি (৩৪), আসিফ উদ্দিন (৩০), মেয়ে আসমা আহমেদ (২৫), স্ত্রী আঞ্জুম আরা বেগম (৫৫) এবং তৌহিদ (৩৬)। তবে অপর এক আহত ব্যক্তির নাম পাওয়া যায়নি।
নিহতদের মধ্যে একজন সিএনজি চালক তৌহিদুল ইসলাম তুষার (২৯)। অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনায় আরও তিনটি মোটরসাইকেল, একটি মাইক্রোবাস ও সানোয়ারা গ্রুপের একটি আইসক্রিমের গাড়িও ট্রেনের নিচে চাপা পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী কিছু ছাত্রনেতা ও রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা।
কালুরঘাট ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার আমিনুল ইসলাম জানান, রাত পৌনে ১১টার দিকে তারা খবর পেয়ে দুটি ইউনিট ও একটি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকাজ এখনও চলমান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) নুরুল আলম আশেক জানান, গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
আইএমই/জেজে/ডিজে